ঘূর্ণিঝড়-তুফানের সময় আমাদের করণীয়

মহান আল্লাহ আমাদেরকে বিভিন্ন সময় নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি দিয়ে পরীক্ষা করে
থাকেন এবং দেখেন আমরা তাঁর কতটুকু অনুগত। আমাদের দেশের ওপর দিয়ে
চলমান ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংও আমাদের জন্য একটি বড় পরীক্ষা।
আর এই পরীক্ষায় আমাদের জীবনে নানারকম দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আর দুর্ঘটনা ও বিপদের সময় প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি আমাদের আল্লাহর দিকে মনোনিবেশ করতে হবে। কোনো বিপদ দেখেই হতাশ হওয়া যাবে না। আশা রাখতে
হবে- মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবরকমের বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করবেন।
ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগে আল্লাহর রাসূল সা: বিশেষ কিছু আমল করতেন ।
এ জন্য ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের আগমনে আমাদেরও ওই আমলগুলোর প্রতি যত্মবান হওয়া উচিৎ।
{১} বৃষ্টির দোয়া পাঠ করা।
দোয়াটি হলো- اللَّهُمَّ صَيِّبًا نَافِعًا “হে আল্লাহ কল্যাণকর বৃষ্টি দাও” (বুখারী: ৬৯১)
অতিবৃষ্টি বা ক্ষতিকর বৃষ্টি হলে এই দোয়া পাঠ করা- اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا، وَلاَ عَلَيْنَا “হে আল্লাহ
আমাদের আশপাশে (জনবসতির বাহিরে) বৃষ্টি দাও, আমাদের উপর নয়।’’ (বুখারী: ৯৩৩)
{২} আল্লাহর ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত থাকা।
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. বলেন, আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হলে এবং ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত
হলে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘাবড়ে যেতেন যে, এটি আল্লাহর আযাব
কিনা। (সহীহ মুসলিম: ১৯৫৭)
{৩} বৃষ্টিকে আল্লাহর রহমত বলে অভিহিত করা।
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. বলেন, প্রিয়নবী সা. যখন বৃষ্টি দেখতেন তখন বলতেন,
“এ তো আল্লাহর রহমত।” (সহীহ মুসলিম: ১৯৫৭)
{৪} বৃষ্টি-বাদল সংক্রান্ত কুসংস্কার থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী হওয়া।
প্রিয়নবী সা. হাদীসে কুদসীতে বলেন, “যে বলে, আল্লাহর করুণা ও রহমতে আমরা
বৃষ্টি লাভ করেছি, সে হল আমার প্রতি বিশ্বাসী এবং নক্ষত্রের (শক্তির) প্রতি অবিশ্বাসী।
আর যে বলেছে, অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের উপর বৃষ্টিপাত হয়েছে, সে আমার প্রতি অবিশ্বাসী এবং নক্ষত্রের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারী।” (সহীহ মুসলিম: ৮৪৬)
{৫} বৃষ্টির পানি গায়ে লাগানো।
রাসুলুল্লাহ সা. বৃষ্টির পানি গায়ে লাগাতেন। সহীহ মুসলিম: ১৯৫৬
{৬} বৃষ্টির সময় দোয়া কবুল হয়, তাই এ সময়ে দোয়া করা।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “দুই সময়ের দো’আ প্রত্যাখ্যাত হয় না কিংবা কম প্রত্যাখ্যাত
হয়। (এক) আযানের সময়। (দুই) বৃষ্টির সময়।” সহীহুল জামে: ৩০৭৮

ঘূর্ণিঝড়-তুফানের সময় কি আজান দেয়া যাবে?

আমাদের দেশে প্রচলিত ঝড়ের সময় আজান দেয়ার বিষয়টি প্রমাণিত নয়, যদিও
যথাস্থানে আজান দেয়া ইসলামের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি নিদর্শন। হাদিসের উদ্ধৃতি
দিয়ে যে কথাটির প্রচলন তার কোনো ভিত্তি নেই; বরং এরূপ সময়ে নামাজে দাঁড়িয়ে, সেজদায় আল্লাহর কাছে দোয়া করাই মুমিনের কাজ। (দারুল উলুম দেওবন্দের
ফতোয়া, নম্বর : ১৬২৭৬৪)